Showing posts with label শেয়ার বাজার টুকিটাকি. Show all posts
Showing posts with label শেয়ার বাজার টুকিটাকি. Show all posts

Sep 22, 2012

শেয়ার বাজারের সাতকাহন।


DSE General Indexআমাদের এ জনবহুল ১৫ কোটি মানুষের দেশে শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীরসংখ্যা (বিও একাউন্ট) দিনদিন বাড়ছেআমাদের দেশের পুঁজিবাজার গবেষকরা বলছেন এ দেশের অন্তত এক কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে বিনিয়োগে অংশগ্রহণ করতে পারে। সরকার কিংবা এসইসি-র কোনো পদক্ষেপ না থাকলেও ধীরে ধীরে এ ছোট্ট পুঁজিবাজারটাতে বিনিয়োগ করতে মানুষ আগ্রহী হয়ে উঠছে। তাদের এ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিনিয়োগ হয়তো একদিন পুঁজিবাজারকে আরো চাঙ্গা করে তুলবে

বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে সমস্যার অন্ত নেই। সব সমস্যার মূলে অর্থনীতি। বর্তমানে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সম্পদের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। অভাব অসীম কিন্তু সম্পদ সীমিত। এ সীমিত সম্পদ কিভাবে বণ্টন করতে হবে তাই অর্থনীতির মৌলিক সমস্যা। অর্থনৈতিক সমস্যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করে। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষ এ অর্থনৈতিক টানাপড়েন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নানা পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। কেউ চাকরিকেউ ব্যবসাকেউ চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা দুটো চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে যে ব্যবসাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তার নাম শেয়ার ব্যবসা। স্কুল-কলেজের ছাত্র থেকে শুরু করে এমনকি ঘরের গৃহিণী পর্যন্ত এ শেয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন ব্যবসায় আসতে হলে আইনের তেমন কোনো জটিলতা পোহাতে হয় নাঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কিছু নিয়ম মেনে চললে এ ব্যবসা করা যায়
তার আগে জানতে হবে শেয়ার ব্যবসা কিএক কথায় বলতে গেলে কোনো কোম্পানি মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তার উদ্দিষ্ট প্রাথমিক মূলধনকে কতোগুলো পূর্ণ অংশে ভাগ করে জনগণের কাছে বিক্রি করে। এরূপ প্রত্যেকটি অংশকে এক একটি শেয়ার বলে হস্থন্তরযোগ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশের মালিকানা কেনাবেচা করাই হলো শেয়ার ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন
প্রাপ্ত বয়স্ক যে কোনো ব্যক্তি যদি শেয়ার ব্যবসায় আসতে চান তো আসতে পারেন তবে তার জন্য প্রথম যে কাজটি করতে হবে তা হচ্ছে সর্বপ্রথম আপনাকে যে কোনো তফসিলি ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে হবে। এরপর সেই ব্যাংক হিসেবের বিপরীতে সিডিবিএল (সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অফ বাংলাদেশ লিমিটেডের) অধীনে বিও (বেনিফিসিয়ারি অনার) একাউন্ট খুলতে হবে। এক কথায় বলতে গেলে আপনি যে কোনো ব্রোকার হাউসে নিয়ে এ বিও একাউন্ট খুলতে পারেন। নির্দিষ্ট হাউসে খুলতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। এ বিও একাউন্ট খোলার পর একজন বিনিয়োগকারী প্রাইমারি ওসেকেন্ডারি উভয় মার্কেটে শেয়ার ব্যবসা করতে পারেন
বিও খুলতে যা লাগবে১.ব্যাংক স্টেটমেন্ট
২. ব্যাংক সার্টিফিকেট/ভোটার আইটি
৩. পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি
৪. একজন নমিনি ছবিসহ
৫. টিন (যদি থাকে)
একজন বিনিয়োগকারী দুটির বেশি বিও একাউন্ট খুলতে পারবে নাসেজন্য তাকে সর্বনিম্ন ১০০ সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা দিতে হবে বিদেশে অবস্থানরত যে কোনো বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে শেয়ার ব্যবসা করতে পারেন সেজন্য বিনিয়োগকারীকে এনআরবি (নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশ) বিও একাউন্ট খুলতে হবে। সে ক্ষেত্রে তাকে পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি এবং (এফসি) ফরেন কারেন্সিব্যাংক একাউন্টের সার্টিফিকেট লাগবে। এফসি হিসেবের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রায় ডিমান্ড ড্রাফট করে অর্থ জমা দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ভেদে ড্রাফট ফি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে
প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি শেয়ার আমাদের দেশে প্রত্যেক বছর কোনো না কোনো কোম্পানি ইনিশিয়াল পাবলিক অফারের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়একটি কোম্পানি যখন প্রথমবারের মতো শেয়ার বাজারে ছাড়ে তাকে আমরা প্রাইমারি শেয়ার বলি প্রাইমারি শেয়ার পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ফর্মে কোম্পানির কাছে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে আবেদন করতে হয়কোম্পানির নির্দিষ্ট শেয়ারের বিপরীতে আবেদনপত্র বেশি হলে লটারির মাধ্যমে শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয় একজন শেয়ার হোল্ডার স্বতন্ত্রভাবে একটি এবং যৌথ বিও একাউন্টের মাধ্যমে দুটি আবেদনপত্র জমা দিতে পারে। আবেদনকারী যদি লটারির মাধ্যমে শেয়ার না পায় তবে আবেদনকারীর টাকা আবার ফেরত চলে আসেপ্রাথমিক শেয়ার বরাদ্দের পর ওই শেয়ার যখন ব্যবসায়ীদের মধ্যে কেনাবেচা হয় তখন সেটা সেকেন্ডারি মার্কেট চলে আসে আর সেই শেয়ার সেকেন্ডারি শেয়ার বলে গণ্য হয়। সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগকারী তার ইচ্ছা মাফিক শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে। সেকেন্ডারি মার্কেটেকোম্পানির শেয়ার ক্রয় করলে সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার বিক্রি করতে পারে নাবিভিন্ন ক্যাটাগরির শেয়ার বিভিন্ন সময় বিক্রি করতে হয়। যেমন এ ক্যাটাগরির শেয়ার চারদিন পর ম্যাচিউড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি করা যায়। অন্যদিকে দুই ক্যাটাগরির শেয়ার সাত দিন পর বিক্রি করা যায়
পুঁজি ও ঝুঁকি কেমন বাংলাদেশে শেয়ার বাজারে বর্তমানে দুটা ক্যাটাগরিতে শেয়ার লেনদেন হয়ে থাকে প্রাইমারি (আইপিও) এবং সেকেন্ডারি। প্রাইমারি শেয়ারের জন্য আবেদন করতে কয়েক হাজার টাকার প্রয়োজন হয়। প্রাথমিক শেয়ারের ক্ষেত্রে ঝুঁকির তেমন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে
সেকেন্ডারি মার্কেটে লাভের সম্ভাবনা যেমন আছে তেমনি লোকসানের ঝুঁকিও বেশি আছে। না বুঝে সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ করলে পুঁজি রাতারাতি হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কোনো রকম গুজবে কান না দিয়ে বুঝে-শুনে বিনিয়োগ করাই উত্তম। পেশাদার সেকেন্ডারি ব্যবসায়ী হতে হলে কয়েক লাখ টাকার প্রয়োজন হতে পারে
সফল হওয়ার কিছু টিপস
১. শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে কোম্পানির মূল ভিত্তি দেখে কেনা
২. যে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় বেশি এবং নেট অ্যাসেট ভ্যালু বেশিসেই কোম্পানির শেয়ার ভালো
৩. কোম্পানির ব্যালেন্স সিট সম্পর্কে ধারণা রাখা ৪. কোম্পানির পণ্যের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা
৫. দেশি-বিদেশি শেয়ার মার্কেটের ওপর জ্ঞান রাখা এবং ৬. যে কোনো ধরনের গুজব এড়িয়ে চলা 

প্রাইমারি মার্কেট আর সেকেন্ডারি মার্কেট কি?

বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে ব্যবসা করতে গেলে আপনি দুই ভাবে করতে পারেন।
এক প্রাইমারি শেয়ারের মাধ্যমে এবং
দুই সেকেন্ডারি শেয়ারের মাধ্যমে।
প্রাইমারি শেয়ারঃ বাজারে কোন কম্পানি প্রথম প্রাইমারি শেয়ারের মাধ্যমে প্রবেশ করে। অর্থাৎ নতুন কোন কম্পানিকে বাজারে অন্তর্ভুক্ত হতে হলে তাকে প্রথমে প্রাইমারি শেয়ার ছাড়তে হবে। শোনা যায় সবাই বলে প্রাইমারি শেয়ারে কোন লস নাই। সেকেন্ডারি শেয়ারে প্রচুর রিস্ক। এরকম কথা তারা কেন বলে আসুন জেনে নেই। প্রতিটি কম্পানির শেয়ারের একটা ফেস ভ্যালু থাকে। কম্পানি যখন তার শেয়ারটি মার্কেটে ছাড়তে চায় তখন সে ফেস ভ্যালুর সাথে প্রিমিয়াম যোগ করে একটি নির্দিষ্ট টাকায় শেয়ারটি অফার করে। এসইসি যদি অনুমোদন দেয় তবে তারা তাদের শেয়ার কেনার জন্য দরখাস্ত আহ্বান করে। যাকে আমরা IPO/আইপিও বা ইনিশিয়াল পাবলিক অফার বলে থাকি। ধরা যাক কোন কম্পানির ফেস ভ্যালু ১০ টাকা এবং তারা ৫ টাকা প্রিমিয়াম সহ শেয়ারের দাম নির্ধারণ করল ১৫ টাকা। এখন আপনি যদি ঐ শেয়ার IPO এর মাধ্যমে পেয়ে থাকেন তবে আপনার প্রতি শেয়ারে দাম পরে ১৫ টাকা। আপনি এখন ইচ্ছা করলে এই শেয়ার সেকেন্ডারি মার্কেটে বিক্রি করতে পারবেন। সাধারনত দেখা যায় প্রাইমারি শেয়ারের যে দাম তার তুলনায় সেকেন্ডারি মার্কেটে এর দাম বেশি হয়ে থাকে। আপনার শেয়ারটি যদি সেকেন্ডারি মার্কেটে ২৫ টাকায় ওপেন হয় তবে আপনি তখন বিক্রি করলে প্রতি শেয়ারে ১০ টাকা লাভ পেয়ে যাবেন। আপনি যদি মনে করেন এই কম্পানি সামনে আরো ভাল করবে তবে প্রাইমারিতে প্রাপ্ত শেয়ার আপনি অনেক দিন ধরেও রাখতে পারেন পরবর্তিতে বেসি দামে বিক্রির জন্য। আবার মনে করুন আপনি যে কম্পানির প্রাইমারি শেয়ার কিনতে চাচ্ছেন তার প্রিমিয়াম অনেক বেশি। তাহলে সেকেন্ডারি মার্কেটে আপনি যে দামে শেয়ার কিনেছেন তার তুলনায় দাম কমেও ওপেন হতে পারে। তাই প্রাইমারি শেয়ার মানেই লাভ না মনে করে কম্পানিটি কি দামে শেয়ার ছাড়ছে প্লাস কম্পানির আয় কেমন অর্থাৎ কম্পানিটি ভাল কিনা তা যাচাই করে কিনুন।

সেকেন্ডারি শেয়ারঃ প্রাইমারি শেয়ার যখন কেউ বিক্রি করে দেয় তখন তা সেকেন্ডারি শেয়ারে পরিনত হয়। সেকেন্ডারি শেয়ার বাজারে ব্যবসা করতে হলে আপনার শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকতে হবে। অর্থাৎ আপনাকে ব্যবসা করার জন্য ফান্ডামেন্টাল প্লাস টেকনিক্যাল এনালাইসিস সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে। এ ধারনা অর্জন করতে পারলে শেয়ার ব্যবসায় আপনি ভাল লাভ করতে পারবেন। আর আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারে ব্যবসা করেন এবং একে পেশা বা বাড়তি ইনকামের সোর্স হিসেবে ব্যবহার করতে চান তবে সেকেন্ডারি মার্কেট খুবই উত্তম যায়গা।
তবে একটা কথা বিশেষ ভাবে বলতে চাই কেউ যদি মনে করেন শেয়ার ব্যবসার মাধ্যমে রাতারাতি ধনী হয়ে যাবেন তাদের এ ব্যবসায় আসতে আমি নিষেধ করব। প্রতি ব্যবসাতেই লাভ লস থাকে এবং পরিশ্রমের দরকার। তাই যথেষ্ট মেধা ও বুদ্ধি খাটিয়ে ধীরেধীরে আপনি শেয়ার মার্কেটে অন্যান্য ব্যবসার তুলনায় তুলনামূলকভাবে অনেক ভাল প্রফিট করতে পারবেন এ আশ্বাস আমি দিতে পারি।